শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী এইবার ৪ সেপ্টেম্বর পালন করা হবে
এই বছর শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ৪ সেপ্টেম্বর পালন করা হবে। গৃহস্থ এবং বৈষ্ণব সম্প্রদায় উভয়ের জন্য জন্মাষ্টমীর উপবাস এবং জন্মোৎসব একই দিনে পড়ছে। পঞ্চাঙ্গ গণনা অনুযায়ী অষ্টমী তিথি ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২:২৫ থেকে শুরু হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২:১৩ পর্যন্ত থাকবে।
কাশীর জ্যোতিষাচার্য অনুযায়ী জন্মাষ্টমী নির্ধারণে শুধুমাত্র অষ্টমী তিথি দেখা যথেষ্ট নয়, বরং জন্মের গণ্য মধ্যরাত্রি সময়ে অষ্টমী তিথির থাকা জরুরি। এই কারণেই জন্মাষ্টমীর উপবাস এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রকাশ উৎসব ৪ সেপ্টেম্বর পালন করা হবে।
৪ সেপ্টেম্বর দিনের শুরু হবে হর্ষণ যোগে, যা দুপুর ৩:৪৪ পর্যন্ত থাকবে। নক্ষত্রের কথা বললে রাত ১১:০৪ পর্যন্ত রোহিণী নক্ষত্র থাকবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম পূজার নির্ধারিত মধ্যরাত্রি সময়ে মৃগশিরা নক্ষত্র এবং বজ্র যোগের সংযোগ থাকবে।
কাশীর জ্যোতিষাচার্য প্রফেসর বিনয় পাণ্ডে জানান, জন্মাষ্টমীর পূজা শুধুমাত্র কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে ভক্তিভাবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বাল রূপে নিজের পরিবারের সদস্য এবং পুত্রের মতো মনে করে ভক্তরা তাঁর প্রকাশ উৎসব পালন করেন। পূজার শুরু হয় গৌরী-গণেশ পূজা এবং কলশ প্রতিষ্ঠা দিয়ে। গণেশের পূজা নির্বিঘ্নতার জন্য করা হয়, আর কলশে বরুণ দেবের আহ্বান করা হয়। এরপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রকাশের অপেক্ষা করা হয়।
দেশের বিভিন্ন অংশে জন্মোৎসব পালনের বিভিন্ন লোকপ্রথা রয়েছে। কোথাও ভগবানের জন্মের ভাবনা শশা দিয়ে তাঁর প্রকাশ ঘটিয়ে প্রকাশ পায়, কোথাও অন্ধকার ঘরে মধ্যরাত্রিতে হঠাৎ আলো জ্বেলে ভগবানের প্রকাশের ভাব প্রকাশ করা হয়। অনেক জায়গায় বাল গোপালকে দুধ বা পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করিয়ে জন্মোৎসব পালন করা হয়। এই প্রথাগুলোর পেছনে ভক্তের সেই অনুভূতি থাকে যেখানে তিনি ভগবানকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অজন্মা মনে করা হয়। তাই তাঁর জন্ম সাধারণ জীবের মতো নয়, বরং ভগবানের প্রকাশ এবং অবতারের লীলা হিসেবে ধরা হয়।
বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিষ বিভাগে যুক্ত সুবাষের মতে, জন্মাষ্টমীর দিনে ভক্তদের সম্ভব হলে উপবাস রেখে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সংকীর্তন করা উচিত। ভগবানের নাম স্মরণ এবং ভজন-কীর্তন জন্মাষ্টমীর ভক্তি পরম্পরার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উপলক্ষে ভক্তরা ‘শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ হরে মুরারি, হে নাথ নারায়ণ বাসুদেব’ এবং ‘গোবিন্দ দামোদর মাধব’ এর মতো ভগবানের নামের জপ করতে পারেন।
ভগবানকে ঋতুর অনুযায়ী উপলব্ধ ফল, সাত্বিক পক্বান এবং অন্যান্য সামগ্রীর ভোগ দেওয়া যেতে পারে। অর্ঘ্য এবং মধুপর্ক অর্পণ করে জন্মোৎসব পালন করার প্রথাও রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন কৃষ্ণ মন্দিরে জন্মাষ্টমীতে বিশেষ সাজসজ্জা করা হয়। অনেক মন্দিরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান স্মরণে কারাগারের ঝাঁকি তৈরি করা হয়। মধ্যরাত্রিতে ভগবানের প্রকাশের সঙ্গে শঙ্খ-ঘণ্টা বাজানো হয় এবং ভক্তরা জয়কারা দেয়।
গৃহস্থ ভক্তরা নিজেদের বাড়ির পূজাস্থলকে মন্দিরের মতো সাজিয়ে বাল গোপালের মূর্তি বা লাড্ডু গোপালের শ্রীংগার করেন। পরিবারের সবাই মিলে ভগবানের জন্মোৎসব পালন করেন। সন্তান এবং বিবাহ সংক্রান্ত ইচ্ছার জন্যও এই পূজা করা হয়।
কান্নার ৫২৫৩তম জন্মোৎসবকে বিশেষ করতে মথুরা-বৃন্দাবনের বাজার সাজিয়ে প্রস্তুত। জন্মাষ্টমীর আগে লাড্ডু গোপালের পোশাক, মুকুট এবং অন্যান্য শ্রীংগার সামগ্রীর কেনাকাটার জন্য বাজারে ভক্তদের ভিড় জমছে।
ভক্তরা অর্ধরাতে প্রথমে ভগবান কৃষ্ণের অভিষেক করেন। তারপর তাঁকে সুন্দর পোশাক পরিয়ে ঝুলায় বসানো হয়।
5 free articles left today
0 of 5 free reads used today.
সর্বাধিক পঠিত







Comments
0 threadsNo approved comments yet. Start the discussion.